About This Books

ছোটদের সিন্দাবাদ

ছোটদের সিন্দাবাদ

  • Author: সুমন কায়সার
  • Publisher: সময় প্রকাশন
  • Category: শিশু-কিশোর গল্প
  • ISBN: 9789844584198
  • Status: FREE
0 Review

সে অনেক দিন আগের কথা। আরবের বাগদাদ শহরে থাকতো এক খুব গরিব লোক। বাগদাদ শহরটা এখন ইরাক নামে দেশটার রাজধানী। আর সেই লোকটার নাম ছিল মুটে সিন্দাবাদ। লোকের মোট, অর্থাৎ মালপত্র বয়ে সে পেট চালাতো বলেই এ নাম। একদিনের কথা। ভীষণ গরম পড়েছে সেদিন! সিন্দাবাদের মাথার বোঝাটাও দারুণ ভারি! খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়লো সে। সিন্দাবাদ তখন যাচ্ছিল এক মস্তো জমকালো বাড়ির সামনে দিয়ে। বাড়ির দোরের কাছেই ছিল ছায়া ঢাকা একটু বসার জায়গা। বেজায় গরম পড়লেও বেশ ঝিরঝিরি একটা বাতাস বইছিল। সিন্দাবাদ ভাবলো, একটু জিরিয়ে নেয়া যাক! বোঝাটা পাশে নামিয়ে রেখে আয়েশ করে বসলো সে। পাশের গাছে মিষ্টি গলায় গাইছিল পাখিরা। মনটা খুশিতে ভরে গেলো সিন্দাবাদের। ফুরসত পেয়ে এবার বাড়ির দরজা দিয়ে ভেতর পানে তাকালো সে। তাকাতেই দেখলো, ভারি সুন্দর একটা বাগান। অনেক চাকরবাকর লোকজন ছুটোছুটি করে কাজ করছে। সিন্দাবাদ মনে মনে ভাবলো, তার যদি এত সুন্দর বাগানঅলা একটা বাড়ি থাকতো তবে বেশ হতো। ঠিক তখনি ভেতর থেকে একটা কেতাদুরস্ত চাকর এসে সিন্দাবাদকে বললো, ‘ভাই তুমি ভেতরে আসো। মালিক তোমাকে ডেকেছেন।’ বোঝাটা দারোয়ানের জিম্মায় রেখে সিন্দাবাদ ভয়ে ভয়ে চললো লোকটার পিছু পিছু। কিছুদূর যেতেই সে দেখলো সুন্দর চেহারার সুবেশ লোকজন বসে আছে সেখানে। বিশাল ভোজ চলছে। দারুণ সব খাবার আর পানীয়ের ছড়াছড়ি। মিঠে সুরে বাজনাও বাজছে। সিন্দাবাদ নেহাতই গরিব মানুষ। ব্যাপারস্যাপার দেখে তো তার চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। সে ভাবলো, এটা নিশ্চয়ই বেহেশ্ত। আর নয়তো বাদশাহর প্রাসাদ। হতভম্ব হয়ে মুটে সিন্দাবাদ এসব ভাবছে, এমন সময় বাড়ির মালিকের ডাকে হুঁশ ফিরলো তার। গৃহস্বামীর ইশারায় রাজ্যের লোভনীয় খাবার এনে রাখা হলো সিন্দাবাদের সামনে। পেটে ক্ষিদে ছিলো খুবই। তাই আর দেরি না করে খাওয়া শুরু করে দিলো সে। পেটপুরে খাওয়া শেষ করে বাড়ির মালিককে অনেক করে ধন্যবাদ দিলো সিন্দাবাদ। ‘কী নাম তোমার? কী কাজ করো?’ মালিক শুধালেন তাকে। ‘হুজুর, লোকে আমাকে মুটে সিন্দাবাদ বলে ডাকে। মাল বয়ে সংসার চালাই’, সিন্দাবাদের জবাব। বাড়ির মালিক তার কথা শুনে হাসলেন। বললেন, ‘জানো আমার নামও সিন্দাবাদ। তবে সবাই আমাকে চেনে জাহাজী সিন্দাবাদ বলে। সওদাগরী জাহাজে সাগরে সাগরে পাড়ি জমাতাম তো! দরজায় তোমাকে দেখে কেন যেন কৌতূহল হলো। তাই ডেকে পাঠালাম। আমি কীভাবে এত ধনী হলাম জানতে ইচ্ছে করছে নিশ্চয়ই। হ্যাঁ, তোমাকে সে কথা বলবো। সে এক দারুণ কাহিনী। জীবনে বহু কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। অনেক বিপদের মুখে পড়েছি। সাগর পাড়ি দিয়েছি সাত সাতবার। প্রতিবারই এমন সব ঘটনা ঘটেছে যা গল্পের চেয়েও আশ্চর্য।’ এরপর জাহাজী সিন্দাবাদ মুটে সিন্দাবাদের কাছে খুলে বসলো তার কাহিনীর ঝুলি।

Summary

Tab Article

সে অনেক দিন আগের কথা। আরবের বাগদাদ শহরে থাকতো এক খুব গরিব লোক। বাগদাদ শহরটা এখন ইরাক নামে দেশটার রাজধানী। আর সেই লোকটার নাম ছিল মুটে সিন্দাবাদ। লোকের মোট, অর্থাৎ মালপত্র বয়ে সে পেট চালাতো বলেই এ নাম। একদিনের কথা। ভীষণ গরম পড়েছে সেদিন! সিন্দাবাদের মাথার বোঝাটাও দারুণ ভারি! খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়লো সে। সিন্দাবাদ তখন যাচ্ছিল এক মস্তো জমকালো বাড়ির সামনে দিয়ে। বাড়ির দোরের কাছেই ছিল ছায়া ঢাকা একটু বসার জায়গা। বেজায় গরম পড়লেও বেশ ঝিরঝিরি একটা বাতাস বইছিল। সিন্দাবাদ ভাবলো, একটু জিরিয়ে নেয়া যাক! বোঝাটা পাশে নামিয়ে রেখে আয়েশ করে বসলো সে। পাশের গাছে মিষ্টি গলায় গাইছিল পাখিরা। মনটা খুশিতে ভরে গেলো সিন্দাবাদের। ফুরসত পেয়ে এবার বাড়ির দরজা দিয়ে ভেতর পানে তাকালো সে। তাকাতেই দেখলো, ভারি সুন্দর একটা বাগান। অনেক চাকরবাকর লোকজন ছুটোছুটি করে কাজ করছে। সিন্দাবাদ মনে মনে ভাবলো, তার যদি এত সুন্দর বাগানঅলা একটা বাড়ি থাকতো তবে বেশ হতো। ঠিক তখনি ভেতর থেকে একটা কেতাদুরস্ত চাকর এসে সিন্দাবাদকে বললো, ‘ভাই তুমি ভেতরে আসো। মালিক তোমাকে ডেকেছেন।’ বোঝাটা দারোয়ানের জিম্মায় রেখে সিন্দাবাদ ভয়ে ভয়ে চললো লোকটার পিছু পিছু। কিছুদূর যেতেই সে দেখলো সুন্দর চেহারার সুবেশ লোকজন বসে আছে সেখানে। বিশাল ভোজ চলছে। দারুণ সব খাবার আর পানীয়ের ছড়াছড়ি। মিঠে সুরে বাজনাও বাজছে। সিন্দাবাদ নেহাতই গরিব মানুষ। ব্যাপারস্যাপার দেখে তো তার চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। সে ভাবলো, এটা নিশ্চয়ই বেহেশ্ত। আর নয়তো বাদশাহর প্রাসাদ। হতভম্ব হয়ে মুটে সিন্দাবাদ এসব ভাবছে, এমন সময় বাড়ির মালিকের ডাকে হুঁশ ফিরলো তার। গৃহস্বামীর ইশারায় রাজ্যের লোভনীয় খাবার এনে রাখা হলো সিন্দাবাদের সামনে। পেটে ক্ষিদে ছিলো খুবই। তাই আর দেরি না করে খাওয়া শুরু করে দিলো সে। পেটপুরে খাওয়া শেষ করে বাড়ির মালিককে অনেক করে ধন্যবাদ দিলো সিন্দাবাদ। ‘কী নাম তোমার? কী কাজ করো?’ মালিক শুধালেন তাকে। ‘হুজুর, লোকে আমাকে মুটে সিন্দাবাদ বলে ডাকে। মাল বয়ে সংসার চালাই’, সিন্দাবাদের জবাব। বাড়ির মালিক তার কথা শুনে হাসলেন। বললেন, ‘জানো আমার নামও সিন্দাবাদ। তবে সবাই আমাকে চেনে জাহাজী সিন্দাবাদ বলে। সওদাগরী জাহাজে সাগরে সাগরে পাড়ি জমাতাম তো! দরজায় তোমাকে দেখে কেন যেন কৌতূহল হলো। তাই ডেকে পাঠালাম। আমি কীভাবে এত ধনী হলাম জানতে ইচ্ছে করছে নিশ্চয়ই। হ্যাঁ, তোমাকে সে কথা বলবো। সে এক দারুণ কাহিনী। জীবনে বহু কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। অনেক বিপদের মুখে পড়েছি। সাগর পাড়ি দিয়েছি সাত সাতবার। প্রতিবারই এমন সব ঘটনা ঘটেছে যা গল্পের চেয়েও আশ্চর্য।’ এরপর জাহাজী সিন্দাবাদ মুটে সিন্দাবাদের কাছে খুলে বসলো তার কাহিনীর ঝুলি।

Related Books